মিলাদ মুদ্দাচ্ছির, সন্দ্বীপ ,চট্টগ্রাম।
সন্দ্বীপের উপকূলীয় নদী বন্দর ও অবহেলিত দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২ মার্চ, রবিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম নগরীর লাভ লেইনে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সন্দ্বীপের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা ফেরী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য আগত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিকট সন্দ্বীপবাসীর পক্ষে সুস্পষ্ট ও জোড়ালো দাবি উত্থাপনের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সভায় বক্তারা সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ দ্বীপবাসীর মৌলিক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তারা সন্দ্বীপের অর্থনৈতিক বিকাশ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিএস সিট অনুযায়ী এবং ১৯৪৫ সালে ৭২ মৌজা হতে ১২ মৌজা নোয়াখালী জেলার এবং ৬০ মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলার অধিভুক্ত হওয়ার পর ভেঙে যাওয়ার পর নতুনভাবে জেগে উঠা অংশ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নোয়াখালী জেলার অধিভুক্ত করায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ডক্টর আকবর হোসাইন এর সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনয় বক্তব্য রাখেন :
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিল্টন ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, বিএনপি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুগ্ম আহবায়ক ইন্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বিএনপি সন্দ্বীপ উপজেলার আহবায়ক এডভোকেট আবু তাহের, জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সন্দ্বীপ উপজেলা আমির সারিকাইত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা ফিরোজ, সেক্রেটারি মুছাপুর ইউনিয়ন’র সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবু তাহের, বিএনপি নেতা আজমত আলী বাহাদুর, লায়ন নাসির উদ্দীন, জামশিদুর রহমান, কালাপানিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বায়রন, সাংবাদিক সালেহ নোমান, সামাজিক সংগঠক কবির সোহেল, মানবাধিকার কর্মী মিলাদ মুদ্দাচ্ছির।
বক্তব্যে জনাব মিল্টন চৌধুরী বলেন, আপনাদের সকল যুক্তিক দাবী আদায়ে উপদেষ্টা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি, যাব। ইনশাআল্লাহ।
বক্তব্যে জনাব আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, রাজনৈতিক যে কোন ইস্যুতে আমাদের আলাদা আলাদা নিজস্ব অবস্থান থাকতে পারে কিন্তু সন্দ্বীপের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। সন্দ্বীপের উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ। এই মন্তব্যের সাথে উপস্থিত সকলে এরকম পোষণ করেন।
সামাজিক সংগঠক জনাব কবির সোহেল বলেন, আমার নিজের ব্যাবসা কক্সবাজার কিন্তু সন্দ্বীপের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করছি এবং সন্দ্বীপের যুক্তিক দাবী ও ন্যায্য হিসসা আদায়ে সার্বক্ষণিক রয়েছি।
ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সংস্কারের দাবী তুলে ধরেন।
অ্যাড আবু তাহের বলেন, রাজনৈতিক ও পেশাজীবিদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সমস্যা চিহ্নিতকরণ সহজ হবে।
সন্দ্বীপের উন্নয়নে অসংখ্য দাবীর পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নের বিষয়ে বিএনপি নেতা জামশেদূর রহমান উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মাদের সন্দ্বীপ প্রশাসনে বসিয়ে রেখে কিভাবে আইন শৃঙ্খলা উন্নয়ন সম্ভব? তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি সৈরাচার আমলের সরাসরি আশীর্বাদপুষ্ট। এবং দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে অভিযুক্ত। তাকে রেখে পরিবর্তন অকল্পনীয়।
জনাব লায়ন নাসির তার বক্তব্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো ও দ্বীপ রক্ষাবাধ নির্মানের কথা বলেন।
জনাব আজমত আলী বাহাদুর বলেন, জেগে উঠা চর রক্ষায় বনায়ন, সন্দ্বীপের সীমানা নির্ধারণ, ন্যায্য মালিকানা এবং কৃষি জমি রক্ষায় বাধ নির্মাণের কথা বলেন। একই দাবী করেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বায়রন। একইসাথে সীমানা নির্ধারণে আইনি সমাধানের উপর জোর দেন তিনি।
মানবাধিকার কর্মী মিলাদ মুদ্দাচ্ছির বক্তাদের দাবীসমুহকে স্বাগত জানিয়ে তার সাথে যোগ করে বলেন, সন্দ্বীপে একটি ইউনিভার্সিটি, একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নার্সিং ইনস্টিটিউট, একটি কলেজে হলেও মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু এবং সন্দ্বীপে শিল্পায়নের উদ্যোগ নেয়া ও ঘোষিত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টির প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে বলেন সন্দ্বীপের চতুর্পাশে রিং রোড নির্মাণ, প্রধান সড়ক সমুহ ২ লেনে উন্নীতকরণ এখন সময়ের দাবী। একইসাথে সন্দ্বীপের দুর্নীতিগ্রস্থ ইউএনও’র অপসারণের দাবী জোরালোভাবে সমর্থন করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সন্দ্বীপের উন্নয়নের জন্য লিখিতভাবে সুপারিশমালা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। উপস্থিত সকলে সন্দ্বীপের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. সেকান্দর বাদশা, অ্যাড লায়ন কফিল উদ্দিল আহম্মদ, অ্যাড. লায়নবমো: শাহাদাত হোসেন, বিএনপি নেতা মো মোশারফ হোসেন দিদার, ফোরকান উদ্দিন রিজভী, জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুল মাওলা রিপন, জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম জন্টু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম, অ্যাড. এমদাদুল ইসলাম রুবেল, একেএম নাসির উদ্দিন, মো: আলমগীর সারওয়ার, মো: সফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মোবারক হোসাইন ভুইয়া, নুরনবী রবিন, শাহরিয়ার ফারুক, সমিরুল ইসলাম মাহি প্রমুখ।